তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি

0

তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩ ): ২০১১-১৭

‘আমাদের সকল শিশুর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা’ এই লক্ষ্য নিয়ে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য হ্রাস, অধিক হারে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষাচক্র সমাপন, শিখন পরিবেশ ও শিখন যাচাই এর মান উন্নয়ন এবং প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সম্পদের দক্ষতাপূর্ণ ব্যবহারে জন্য বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কার্যক্রম তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কার্যকর ও সময়োপযোগী শিশুবান্ধব শিখন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল শিশুর কর্মোপযোগী, একীভূত এবং সমতা-ভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। মোটাদাগে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিকে তিনটি ভাগ করা যায়, ১. শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ; ২. বিদ্যালয়ের পরিবেশ; ৩. বিদ্যালয়ের বাইরের পরিবেশ। এ কর্মসূচিতে প্রাথমিক শিক্ষার চাহিদাসমূহকে সমন্বিতভাবে চিহ্নিত ও সমর্থন যোগানের প্রচেষ্টা করা হয়েছে। DPP (Development Project Proforma/Proposal) অনুসারে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্দেশ্যসমূহ:
১. বিদ্যালয় গমনোপযোগী সকল শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করণ ও শিক্ষাচক্র সমাপন;
২. বিদ্যালয়ে ভর্তি, উন্নত শিখন পরিবেশ ও যথাযথ ভাবে শিখনচক্র সমাপনের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের বৈষম্য হ্রাসকরণ;
৩. শ্রেণিভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক প্রত্যাশিত শিখনফল ও যোগ্যতাসমূহ শ্রেণিকক্ষেই অর্জন;
৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখন-শেখানো পরিবেশের মান উন্নয়ন;
৫. প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুবান্ধব শিখন নিশ্চিত করা;
৬. শিক্ষার্থীর শিখন মূল্যায়ন পদ্ধতির উন্নয়ন;
৭. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিশুর জন্য শিক্ষা-উপকরণ সরবরাহ;
৮. শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের (সকল স্তরের) যথাযথ প্রশিক্ষণ আয়োজন;
৯. চাহিদানুযায়ী ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ;
১০. প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যয় বরাদ্দের কার্যকারিতা বৃদ্ধি;
১১. বিদ্যালয় ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পনা বিকেন্দ্রীকরণ; এবং
১২. শিশুর শিখনে সহযোগিতায় অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ।

পাঁচবছরের এ কর্মসূচির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রামানে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩০ কোটি ডলার। যেখানে রাজস্ব ব্যয় ৪১৮ কোটি ডলার, উন্নয়ন ব্যয় ৩১৭ কোটি ডলার এবং আরও স্বতন্ত্র কিছু কার্যক্রমের জন্য ব্যয় ৯৭.৯ কোটি ডলার। উপরে বর্ণিত বিভিন্ন প্রকল্পের সামষ্টিক লক্ষ্যসমূহ গুণগতমানের নিম্নোক্ত ৪টি ক্ষেত্রে বিন্যস্ত করা হয়:
১. প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন;
২. বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন;
৩. উন্নত অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন; এবং
৪. মানসম্মত বিদ্যালয়ে সুষম ও সমতাভিত্তিক শিশু- ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি ও সহায়তা প্রদান।

উপর্যুক্ত ৪টি ক্ষেত্র জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রাথমিক শিক্ষার বৈষম্যহীন ভর্তি এবং শিক্ষার সক্ষম ও টেকসই মানের সুষম বিকাশ সম্প্রসারণ করার জন্য বেশকিছু কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে। তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির ৪টি ক্ষেত্রের জন্য ছয়টি ফলাফল ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে যার মাধ্যমে অর্জনের সাফল্য নির্ধারণ করা হবে। ক্ষেত্রসমূহ হলো-১. শিখনফল ২. অংশগ্রহণ ৩. অসমতা ৪. বিকেন্দ্রীকরণ ৫. কার্যকারিতা ৬. কর্মসূচির পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা। এসব ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের জন্য ২৯ টি উপক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সকল কার্যক্রমের প্রভাব বাংলাদেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিফলিত হবে।

Share.

About Author

Leave A Reply