বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় গৃহীত কার্যক্রম

0

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় গৃহীত কার্যক্রম

দেশ স্বাধীন হবার পর অতিদ্রুত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার পরিধি ও বিস্তৃতি বৃদ্ধি পায়। অধিদপ্তরের সীমিত জনবল ও কর্মক্ষমতা দিয়ে এতবড় কার্যক্রম পরিচালনা দুরূহ হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে আশির দশকে প্রাথমিক শিক্ষায় বৈদেশিক সহায়তা আসে। বিপুল আর্থিক ও টেকনিক্যাল সহায়তার মানসম্মত বাস্তবায়নের জন্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হয়। সুতরাং সঙ্গত কারণে এ সময় প্রাথমিক শিক্ষায় উন্নয়ন প্রকল্প গৃহীত হতে থাকে। এ সময় থেকে পিইডিপি-৩ এর পূর্বে ২০১১ সাল পর্যন্ত যেসব উন্নয়ন প্রকল্প গৃহীত হতে থাকে তার সংক্ষিপ্তসার নিচে বর্ণিত হলো:

প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮)
দেশের প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে যে লক্ষ্যসমূহ নির্ধারণ করা হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
– বিদ্যালয় পুন:নির্মাণ
– নতুন ৫০০০ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
– শিক্ষার্থী ৫৮ শতাংশ (১৯৭৩) হতে পরবর্তী পাঁচ বছরের (১৯৭৮) মধ্যে ৭৩ শতাংশে উন্নীত করা
– ঝরেপড়া হার ৬৩ শতাংশ হতে ৫২ শতাংশে কমিয়ে আনা
– শিক্ষকের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে পিটিআইসমূহের উন্নয়ন

প্রথম দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৮-৮০)
প্রথম দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনায় শিক্ষা খতে ২৮৯.৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এ সময়কালে নিয়মিত কার্যক্রমের সাথে যে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়:
– জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি প্রতিষ্ঠা
– ৫১টি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মেরামত কার্যক্রম

দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৮০-৮৫)
এ পরিকল্পনা মেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষায় সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা (জাতীয়) প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। এর ধারাবাহিকতায় বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা(ইউপিই/আইডিএ) পরিচালিত হয়। ৪৩২ থানায় সরকারি অর্থে পরিচালিত জাতীয় প্রকল্প এবং আইডিএ-র সহায়তায় ৪০টি থানায় সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। দুটি প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল ৪২৮.৮৮ কোটি টাকা। প্রকল্প দুটির তাৎপর্যপূর্ণ সুফলগুলো হলো:
– পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ এবং ১৯৮৫ সালের মধ্যে সকল শিক্ষার্থীর জন্য এ সুযোগ সম্প্রসারণ
– আসবাবপত্র ও শিক্ষোপকরণ সরবরাহ
– শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ
– ১৯৮১ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা
– শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ প্রবর্তন
– বিদ্যালয়ে ভৌতসুবিধা সম্প্রসারণ; ১১,২৪৭টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, ৯,৪৩১টি বিদ্যালয় সংস্কার, ৬,২৪২টি নলকূপ স্থাপন এবং ৫,৭৪৫টি পায়খানা নির্মাণ।
– ৫০০ মহিলা শিক্ষকের পদ সৃষ্টি
– সারাদেশে বিদ্যালয় মানচিত্র প্রণয়ন কাজ সমাপ্তিকরণ
– ১৮৩৪টি সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা পদ সৃষ্টির মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে তত্ত্বাবধান ও পরিদর্শন তৎপরতা বৃদ্ধি

এ সময়ে Instructional Management by Parents Community and Teachers (IMPACT) নামে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম টাঙ্গাইল জেলায় বাস্তবায়নের পর আরও ১০টি জেলায় সম্প্রসারণ করা হয়। Community Learning Center (CLC) নামে আরও একটি শিক্ষা কার্যক্রম ইউনিসেফের সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনায় সমাজ সম্পৃক্ততা জোরদার করতে এ দুটি উদ্যোগ নেয়া হয় এবং এর বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতাসমূহ পরবর্তী কার্যক্রম পরিকল্পনায় যথেষ্ট প্রভাব রেখেছে। এ পরিকল্পনা মেয়াদে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম ও আবশ্যকীয় শিখনক্রম প্রণয়নের কাজ শুরু হয়।

তৃতীয় পাঁচশালা পরিকল্পনা (১৯৮৫-৯০)
তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে বৈদেশিক সহায়তায় সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা (দ্বিতীয় পর্যায়) বাস্তবায়িত হয়। এই পরিকল্পনা মেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ হলো:
– বিদ্যালয়ে ভর্তি হার ৬০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীতকরণ
– ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ ও স্থিতি নিশ্চিতকরণ
– প্রাথমিক স্তরে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ
– প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন
– পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাক্রমের সংশোধন, পুনর্বিন্যাস ও পরিমার্জন
– ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন: ৯,২৮৫টি বিদ্যালয় পুন:নির্মাণ, ১৬,২৫৭টি বিদ্যালয় মেরামত ইত্যাদি
– আসবাবপত্র ও শিক্ষোপকরণ সরবরাহ

নানাকারণে এ মেয়াদে নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জন সম্ভব হয়নি আংশিকভাবে অর্জিত হয়েছে। তৃতীয় পাঁচশালা পরিকল্পনা মেয়াদে নতুন শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয় নির্মাণ, সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় প্রতিষ্ঠা, শিক্ষোপকরণ সরবরাহের মতো লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে ৮,৫১৯ বিদ্যালয় নির্মাণ, ৫,০০০ বিদ্যালয় মেরামত, ২ লক্ষ ১৫ হাজার জোড়া বেঞ্চ সরবরাহ করা হয় এবং ১০০০ বিদ্যালয়কে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনা এবং ৪০০০ নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।

চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৯০-৯৫)
শিক্ষাকে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধানতম বাহন চিহ্নিত করে এ পরিকল্পনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। নিরক্ষরতা দূর করা এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে সময়োপযোগী ও জোরদার করতে ১৯৯২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা নামে নতুন বিভাগ সৃষ্টি করা হয়। চতুর্থ পাঁচশালা পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো বাধ্যতামূলক শিক্ষার প্রবর্তন। অন্যান্য প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ হলো:
– বিদ্যমান সুবিধার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক শিক্ষার নবতর সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সমতা বিধান করা
– প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়ে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানো
– শিক্ষকদের চাকুরীকালীন প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য উন্নততর ব্যবস্থা গ্রহণ
– প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষাক্রম পরিমার্জন
– একাডেমিক সুপারভিশন এবং প্রশাসনিক পরিদর্শন কাজের প্রবর্তন
– নারীদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যাতা শিথিল করে শুণ্যপদে ৬০ ভাগ নারী শিক্ষক নিয়োগ প্রদান

পাঁচবছর মেয়াদী পরিকল্পনার চতুর্থ মেয়াদের শুরুর বছর ১৯৯০ সালে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাশ করা হয়। প্রথমে ১৯৯২ সালে ৬৮টি থানা এ আইন বাস্তবায়নের আওতায় আনা হয়। কার্যক্রমের সাফল্যে ১৯৯৩ সালে সারাদেশকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়।

সাধারণ শিক্ষা প্রকল্প (১৯৯২-৯৭)
১৯৯২ সালে শুরু হওয়া সাধারণ শিক্ষা প্রকল্প (Genarel Education Project. GEP) পাঁচবছর মেয়াদি চতুর্থ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং এ সময়ে শিক্ষাখাতের মোট ব্যয়ের ৯০ ভাগ এ প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষার ন্যায়সঙ্গত ও সার্বজনীন বিস্তার নিশ্চিত করা, গুণগতমান উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনার সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত এ প্রকল্পের অর্জিত সুফলগুলো হলো:
– বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় এলাকাবাসীর সহায়তায় স্বল্পব্যয়ী ১,১৩৪টি বিদ্যালয় নির্মাণ
– ৭,৬৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুননির্মাণ এবং ৯,৩৩৫টি বিদ্যালয় মেরামত
– ৭,২৩২টি রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুননির্মাণ এবং ৫৮০টি বিদ্যালয় মেরামত
– নির্মাণ, পুননির্মাণ ও মেরামতকৃতি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ
– প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি নিয়ে ২০০ স্যাটেলাইট বিদ্যালয় স্থাপন
– নেপ এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ, পিটিআই এর ভৌত সুযোগ সুবিধা উন্নয়ন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণ
– ১০ থানার ৬৮৯ বিদ্যালয় আকর্ষনীয়করণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন
– দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষকদের চাকুরিকালীন প্রশিক্ষণ প্রদান
– বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ
– শিক্ষাক্রম পরিমার্জন, পাঠ্যবই নবায়ন
– শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি প্রবর্তন।

১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে ৪৬০ ইউনিয়নে ৪,৭৮৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি চালু করা হয়। সুবিধাভোগী শিক্ষার্থী ৬,৯৮,১৩৭ জন এবং পরিবার সংখ্যা ৫,৪৩,৩৫৯। পরের অর্থবছরে ১০০০ ইউনিয়নে ১২,১৮২ বিদ্যালয়ে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়। সুবিধাভোগী শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৬,২৮,৬৫৯ এবং উপকৃত পরিবার সংখ্যা বেড়ে হয় ১৪,১৬,৯৩২। সাধারণ শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় ও সময়কালে কয়েকটি অঞ্চল ভিত্তিক প্রকল্প সহ আরও দুটি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়:
– ঢাকা, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন প্রকল্প
– চট্টগ্রাম বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন প্রকল্প
– প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন
– এনজিওদের দ্বারা উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন
– সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আকর্ষণীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন

চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫২ লক্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝরেপড়ার হার ১৯৯১ সালে ৫৯.৩ ভাগ থেকে হ্রাস পেয়ে ১৯৯৪ সালে হয় ৩৮.৭ ভাগ। শিক্ষার্থীদের লিঙ্গ সমতায়ও উন্নয়ন ঘটে। ১৯৯০ সালে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীর অনুপাত ছিল ৫৫.২৮ : ৪৪.৭২। ১৯৯৫ সালে এ অনুপাত হয় ৫২.৬২ : ৪৮.৩৮। নারী পুরুষ শিক্ষক অনুপাতেও পরিবর্তন ঘটে। ৬০ শতাংশ মহিলা শিক্ষক নিয়োগের বিধি প্রবর্তনের ফলে ১৯৯৫ সালে মহিলা শিক্ষক অনুপাত ২৮ ভাগে উন্নীত হয়, ১৯৯০ সালে তা ছিল ২০.৫৭ ভাগ। চতুর্থ মেয়াদ শেষে পঞ্চম পাঁচশালা পরিকল্পনা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত মধ্যবর্তী দু’বছরের (১৯৯৫-৯৭) কার্যক্রম ও অর্জিত সাফল্য:
– বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ২,২৮১ স্বল্পব্যয়ী বিদ্যালয় নির্মাণ
– ৫,৬৪৬ বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণ এবং ৮৯০টি মেরামত
– ৬৩২ রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণ এবং ৩১৩টি মেরামত
– দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান
– প্রদানবিনামূল্যে বই বিতরণ
– ১,০৬১ স্যাটেলাইট বিদ্যালয় স্থাপন
– প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজার কাবদল গঠন
– ২৬,৮৩৭ বিদ্যালয়ে শিক্ষা-উপকরণ সরবরাহকরণ
– শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি ৪৬০ থানায় সম্প্রসারণ

প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন
শিক্ষার গুণমান বৃদ্ধির জন্য প্রাথমিক শিক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহের একটি হলো যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম প্রণয়ন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে যথাযথ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক গড়ে ওঠার জন্য এদেশের সকল শিশুর আবশ্যকীয়ভাবে যে যোগ্যতা অর্জন করা উচিত এবং দেশের বিদ্যালয়ের সীমিত সুযোগ সুবিধার মধ্যে যা অর্জন করা সম্ভব সেগুলোকে চিহ্নিত করা হয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন কমিটি কর্তৃক ১৯৭৬ সালে প্রণীত শিক্ষাক্রম পরিমার্জন ও নবায়নের মাধ্যমে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করেন। নতুন শিক্ষাক্রমের ওপর ভিত্তি করে নতুন পাঠ্যপুস্তক, শিখন-শেখানো নির্দেশনা এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষক সংস্করণ ও সহায়িকা তৈরী করেন। এ যোগ্যতাগুলো শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে কোন শ্রেণিতে কতটুকু অর্জিত হবে তা ধারাক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করে ১৯৮৮ সালে আবশ্যকীয় শিখনক্রম প্রণয়ন করা হয়। ১৯৯১ সাল থেকে যোগ্যতাভিত্তিক শিখনক্রম অনুসরণ শুরু হয়। এ উদ্যোগ প্রচলিত পাঠ পরিচালনার সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের সূচনা করে। শিক্ষাক্রমের বিস্তারণে প্রাথমিক শিক্ষার প্রান্তিক যোগ্যতা, বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা ও শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতার ধারণার সংশ্লেষিত জ্ঞান-উপলব্ধি শিক্ষকদের কাছে নিয়ে যেতে এবং আত্মস্থ হতে সময় লেগেছে।

পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৯৭-২০০২)
মানব সম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা ব্যতীত অন্য কোন বিকল্প নেই, আর শ্রেণিকক্ষ থেকেই উন্নয়নের সূচনা- বিশ্বব্যাপী এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সাথে উন্নয়নকে অগ্রগামী করার কৌশল হিসেবে সরকার পঞ্চম পাঁচশালা পরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষার দ্রুত বিস্তারে বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সরকারের এ পরিকল্পনা মেয়াদে সহযোগী অংশীদার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও পরিচালনা করে।

প্রকল্প প্রণয়ন সেল (পিইডিপি): ১৯৯৭-২০০৩
বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষার প্রকল্প প্রণয়ন নামে পাঁচবছর মেয়াদী একটি প্রকল্প (Project Preparation Cell) গ্রহণ করে। ভর্তির হার বৃদ্ধি, প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সমতার বিধান প্রচলনের ধারণা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে সময় দেশী ও বিদেশী বিশেষজ্ঞগণ ব্যাপক প্রস্তাবনা প্রণয়ন করেন । আগত পেশাজীবীগণ বাংলাদেশে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী একটি ধারণাপত্র রচনা করেন: এ দলিলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী দশকে অনেকগুলো প্রকল্পের রূপরেখা রচিত হয়। এ ধারণাপত্রে প্রথম প্রাথমিক শিক্ষার সর্বত্র গুণগতমানের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হয়। শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে বহুমুখী উপাদান যে যোগ করা প্রয়োজন, এ আধুনিক ধারণা এখানে সংযুক্ত করা হয়।
সি-ইন-এড প্রশিক্ষণের পর শিক্ষকদের শিক্ষণের বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন উদ্ভাবিত ধ্যানধারণার সঙ্গে পরিচিত করানোর আর কোন প্রতিষ্ঠান না থাকায় উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ধারণা প্রস্তাব করা হয়। রিসোর্স সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষকদের একাডেমিক তত্ত্বাবধান, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন পরিচালনা করে শিক্ষকদের পেশাগত মান অব্যাহতভাবে উন্নয়ন করা সম্ভব হবে বলে ধারণাপত্রে বর্ণিত হয়েছে। শিক্ষর মান-উন্নয়নের এ সকল ধারণা, ক্ষেত্র ও উপাদানের সমীকরণে পরবর্তী সময়ে গৃহীত প্রকল্পগুলোর ফ্রেমওয়ার্ক তৈরী করা হয়। দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের কার্যক্রমসমূহ পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত হয়। এ সময়ে গৃহীত কয়েকটি প্রকল্প ও তার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো:

আইডিয়াল প্রকল্প (১৯৯৬-২০০৪)
• মার্কিন শিক্ষামনোবিদ হাওয়ার্ড গার্ডনারের বিভিন্নমাত্রার যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিখন-তত্ত্ব (Differentiated learning) ভিত্তিক বহুমুখী শিখন পদ্ধতির (MWTL) প্রয়োগ বাংলাদেশের শিক্ষক-প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষেরশিখন-শেখানো কাজ, তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ-সংস্কৃতিতে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিকতার নবজন্ম হয়। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য যা ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
• উপজেলা ও স্কুলভিত্তিক পরিকল্পনা এ প্রকল্পের একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন কর্মসূচি। শিক্ষক, সমাজ ও শিশুর নিকট স্কুলের চাহিদা এবং স্কুলের নিকট স্থানীয় জনসমাজের চাহিদা নিরূপণ এবং চাহিদাভিত্তিক কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে শিক্ষার মানোন্নয়ন এ কম্পোনেন্টের বৈশিষ্ট্য।
• ইউআরসি স্থাপন, এ জন্য প্রশিক্ষক নিয়োগ ও স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন।
• প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বগুণ বিকাশের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ প্রচলন।

নোরাড সাহায্যপুষ্ট প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন প্রকল্প (১৯৯৭-২০০৩)
জীবনঘনিষ্ঠ, বাস্তব এবং বিজ্ঞানভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য নিয়ে এ প্রকল্প যে উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত হয় সেগুলো হলো:
• শিক্ষক প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ শিক্ষাক্রম উন্নয়ন
• প্রাথমিক শিক্ষার উন্নততর মানের জন্য শ্রেণিকক্ষের শিখন-শেখানোর গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান
• বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও শ্রেণিকক্ষের অনুশীলন বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত চাকুরিকালীন সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ
• প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে (নেপ) এপেক্স ইনস্টিটিউট করা এবং নেপের মাধ্যমে পিটিআই ইনস্ট্রাক্টরদের (TOT) প্রশিক্ষণ, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণে সহায়তা প্রদান
• উপজেলা/থানা পর্যায়ে বিকেন্দ্রিকরণ করে প্রশিক্ষণ চাহিদা নিরূপণ ও প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন পদ্ধতি (ইউআরসি) গড়ে তুলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন।
• প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, সুপারভাইজার, প্রশিক্ষক এবং শিক্ষকদের দেশীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণের সংস্থান রাখা ইত্যাদি ।

জার্মান সাহায্যপুষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প (১৯৯৭-২০০২)
এ সময় জিটিজেড অর্থিক সহায়তায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বগুড়া কেন্দ্রিক একটি ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এ প্রকল্পেরও মূল লক্ষ্য ছিল ভৌতসুবিধা সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন সমীক্ষা পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন; তবে শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বৃদ্ধির প্রতিও এ প্রকল্পে গুরুত্ব দেয়া হয়।

ডিএফআইডি সাহায্যপুষ্ট এস্টিম প্রকল্প (১৯৯৮-২০০৪)
এস্টিম প্রকল্প বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ব্যাপক ও বহুমুখী ভূমিকা রেখেছে। এ প্রকল্পে যে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়:
• শিক্ষকযোগ্যতা নির্ধারণ: বাংলাদেশের একদল প্রশিক্ষক, সুপারভাইজার ও কর্মকর্তাদের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমাটন কলেজে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে ৬০ হাজার স্বীকৃত শিক্ষকযোগ্যতা সংগ্রহ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষিত বিবেচনা করে ৩৭ টি যোগ্যতা বাছাই করেন। এ ৩৭টি যোগ্যতা আবার ৬টি ক্ষেত্রে বিন্যস্ত করে এর পারদর্শিতা- সূচক (performing indicators) নির্ধারণ করেন। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষকযোগ্যতার ধারণা প্রচলন, শিক্ষক কর্তৃক এ যোগ্যতাগুলো অর্জন, তত্ত্বাবধানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক তা প্রয়োগ করে শিক্ষকের যোগ্যতা মূল্যায়ন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নতুন।
• একাডেমিক তত্ত্বাবধান প্রচলন: আমাদের দেশে পরিদর্শনের ঐতিহ্য ছিল কিন্তু সহায়ক তত্ত্বাবধানের প্রচলন ছিলনা। এ প্রকল্পে প্রথম শিক্ষকযোগ্যতা ব্যবহার করে একাডেমিক তত্ত্বাবধানের প্রয়োগ করা হয়। তত্ত্বাবধানের ফলাফল সংরক্ষণের জন্য পুনরায় শিক্ষকযোগ্যতা ব্যবহার করে Record of Professional Development (RPD) উন্নয়ন করা হয়। এর ফলে শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়নের অব্যাহত অগ্রগতি রেকর্ড করা সম্ভব হয় এবং আরও উন্নয়নের জন্য ফলাবর্তন প্রথা চালু করা হয়। পিটিআইসমূহে একইভাবে সিইনএড প্রশিক্ষণ পর্যবেক্ষণ, রেকর্ড সংরক্ষণ ও ফলাবর্তন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।
• বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ: শিক্ষকযোগ্যতা, একাডেমিক তত্ত্বাবধান, রেকর্ডসংরক্ষণ ও ফলাবর্তনের ব্যবস্থা রেখে এ প্রশিক্ষণ প্রচলন করা হয়। এছাড়াও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণও নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়।
• অংশগ্রহণমূলক, মিথষ্ক্রিয়াধর্মী ও অনুচিন্তনমূলক প্রশিক্ষণ প্রচলন: বস্তুতপক্ষে এ নতুন ধারণাসমূহ প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার প্রশিক্ষণ সামগ্রিক ভাবে অংশগ্রহণমূলক, মিথষ্ক্রিয়াধর্মী ও অনুচিন্তনমূলক করা হয়। এ কারণে শিক্ষক, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের মধ্যে এক ধরনের প্রণোদনার সৃষ্টি হয়।
• মানব সম্পদ উন্নয়ন: প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এ প্রকল্পের কার্যক্রম সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে। এ প্রকল্পে দেশি ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্তির ফলে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও সুপারভাইজারগণ নবজীবনের স্বাদ পান। এদের মধ্যে অনেকে পরবর্তীতে নেপ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে, পিটিআই এবং ইউআরসি-তে আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করে সুনাম অর্জন করেছেন।

দ্বিতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-২): ২০০৩-২০১১
বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার মধ্যে দ্বিতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি অন্যতম। দ্বিতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ২০০৫ সাল থেকে কাজ শুরু হলেও ২০০৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচির ধারণাপত্র অনুমোদন এবং একই বছর ২৩ অক্টোবর চূড়ান্ত করা হয়। দ্বিতীয় প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন কর্মসূচি ভর্তির হার ও শিক্ষার মান উভয় ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছে। গুণগতমানের যে সব কার্যক্রম পূর্বের প্রকল্পসমূহে বাস্তবায়িত হয়েছে তার প্রায় সবগুলো পিইডিপি-২ এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি সহ-অর্থায়ন কার্যক্রম যার ৬৪% ভাগ অর্থ বাংলাদেশ সরকারের এবং বাকি ৩৬% ভাগ উন্নয়ন অংশীদার দেশ ও সংস্থা যোগান দেয়। উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে ছিলেন এডিবি, ডিএফআইডি, আইডিএ, ইসি, নোরাড, সিডা, সিআইডিএ, জাইকা, ইউনিসেফ ও অস-এইড এবং নেদারল্যান্ড সরকার। এ কর্মসূচি মূলত নয়টি উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল। পিইডিপি-২ এর উদ্দেশ্যসমূহ ছিল নিম্নরূপ:
1. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মানদন্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন;
2. বাংলাদেশের সকল শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রবেশ-উপযোগী করে তোলা;
3. ভর্তি, উপস্থিতি এবং পাঁচবছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষাচক্র সমাপনীর হার বৃদ্ধি করা;
4. শ্রেণিকক্ষের শিখন-শেখানো কাজে শিশুকেন্দ্রিক পদ্ধতি গ্রহণ করা;
5. শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর বিকেন্দ্রিকরণ নীতি গ্রহণ করা:
6. সকল পর্যায়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় শক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা;
7. সকল পর্যায়ে দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা;
8. পাঠ্যপুস্তক ও শিখন-শেখানো উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা:
9. বিদ্যালয় পরিচালনা ও সহায়তা প্রদানে সমাজ বিশেষ করে পিতামাতার ভূমিকা শক্তিশালী করা।

‘দ্বিতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত শুরুর আগে পর্যন্ত সামগ্রিক বিবেচনায় সর্ববৃহৎ কার্যক্রম। এ কর্মকান্ডের চারটি ক্ষেত্র হলো:
১. প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গুনগত মান-উন্নয়ন
২. বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষের উন্নয়ন
৩. অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিখন পরিবেশের মান উন্নয়ন এবং
৪. সকল শিশুর সমতাভিত্তিক ভর্তি ও শিখনমান উন্নয়ন ও সহায়তা প্রদান

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রকৃত ভর্তির হার ৯৫ ভাগ, ৮৫ ভাগ শিক্ষাচক্র সামাপন এবং ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীরা ৬৫ ভাগ শিখন যোগ্যতা অর্জনে লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফ কাজ করে। পিইডিপি-২ এর কার্যক্রমের ওপর ইউনিসেফ এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়:
• অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
• বিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় শিক্ষক, অভিভাবক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির অংশগ্রহণ ও যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে স্থানীয় সম্পৃক্ততা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
• ভর্তি ও উপস্থিতি বৃদ্ধির সাথে সাথে শিখনের মানেও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

Share.

About Author

Leave A Reply